ইয়াপটিউটর কি এবং কেন?

প্রাত্যহিক পড়াশুনাকালীন সময়ে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয় যা তারা তাৎক্ষণিক মুহূর্তে সমাধান করতে পারে না। আপনি হয়তো খেয়াল করে দেখেছেন, পড়াশুনার সময়ে আপনার সন্তান/ ছাত্রছাত্রীরা কিছু কিছু বিষয়/টপিক/প্রশ্ন/অনুচ্ছেদ/সংজ্ঞায় বেশ জটিলতা অনুভব করে, যা তারা অভিভাবক/হোম টিউটর/ইউটিউব ভিডিও/সিনিয়র কারো কাছ থেকে স্পষ্ট, স্বচ্ছ ও সহজ সাবলীলভাবে বুঝে নিতে সক্ষম হয়না। কখনো কখনো টুকটাক সমস্যা থাকে, আবার কখনো সমস্যা বেশ প্রকট। এর ফলে পঠিত বিষয়ে তাদের দুর্বলতা থেকে যায়, এবং ধীরে ধীরে এই দুর্বল দিকগুলোর পরিমান বাড়তে থাকে। আন্ডারস্ট্যান্ডিং লেভেল ভালো না থাকার করণে তাদেরকে মুখস্থ বিদ্যার উপর ভর করে এগুতে হয়।না বুঝে মুখস্থ করার কারণে অল্প কিছুদিন পরেই তা ভুলে যায়।

ছাত্রছাত্রীদের এই বিশেষ সমস্যা সমাধানের জন্যই ইয়াপটিউটর -YapTutor নামে আমরা একটা অন-ডিমান্ড লাইভ টিউটর মার্কেটপ্লেস চালু করেছি। এটি একটি ওয়ান-ওয়ান অন-ডিমান্ড লাইভ টিউটর মার্কেটপ্লেস যেখানে একজন টিউটর শুধুমাত্র একজন স্টুডেন্টকে ভার্চুয়াল ক্লাশরুমে পড়াবে।তাই আমাদের মোস্ট প্রেফারেন্স হলো: ছাত্রছাত্রীদেরকে সাবজেক্ট টপিকে স্পষ্ট ও স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া যাতে এই জাতীয় বিষয়ে ছাত্রছাত্রী আর কোনো সমস্যা বোধ না করে।

লাইভ ভার্চুয়াল ক্লাশে এক্সপার্ট শিক্ষক পড়াশুনার সমস্ত কিছু বুঝিয়ে দিবেন। আমাদের এই প্লাটফর্ম ১-১ অর্থাৎ একজন টিউটর শুধুমাত্র একজন ছাত্র/ছাত্রীকেই ভার্চুয়াল ক্লাশে পড়াবে। গ্রূপ কোচিং বা ইউটিউব ভিডিও বা ইউটিউব লাইভ ভিডিওতে কখনো ছাত্রছাত্রীদের পার্সোনালাইজড সমস্যার সমাধান হয় না। গ্রূপ কোচিং/ইউটিউব ভিডিও/ইউটিউব লাইভ ভিডিও হলো ওয়ান ওয়ে প্লাটফর্ম অর্থাৎ সেখানে শুধুমাত্র শিক্ষক ব্যাখ্যা করে বলেন ও বুঝিয়ে দেন কিন্তু ছাত্রছাত্রী বুঝতে পারলো কিনা তা জানা যায় না। ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন করার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ইউটিউব ভিডিওতে কমেন্টস এর মাধ্যমে প্রশ্ন করা গেলেও ইন্সট্যান্টলি উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। উত্তর পাওয়া গেলেও সেটা ছাত্রছাত্রীর স্যাটিসফ্যাকশন নাও হতে পারে।

তাছাড়া ইউটিউব ওয়ান-ওয়ান প্লাটফর্ম নয়। ইউটিউবে ভার্চুয়াল হোয়াইটবোর্ড নাই, ক্লাসরুম এনভায়রনমেন্ট নাই। আমাদের ভার্চুয়াল ক্লাশ ২ ওয়ে প্লাটফর্ম অর্থাৎ ভার্চুয়াল ক্লাশে ছাত্র ও শিক্ষক উভয়ে সরাসরি কথোপকথন করতে পারবে। এখানে ইন্টারেকটিভ অডিও, ভিডিও, চ্যাট, ফাইল শেয়ার, কম্পিউটার/মোবাইল স্ক্রিন শেয়ার, ভার্চুয়াল হোয়াইটবোর্ড, ফাইল ডাউনলোড/আপলোড, লাইভ ক্লাস রেকর্ডিং ইত্যাদি বহু সুযোগ/সুবিধা রয়েছে। এই ভার্চুয়াল ক্লাশ শুধুমাত্র পড়াশুনার জন্য অপটিমাইজড। এই বিশেষ সুবিধার জন্যই ছাত্র/ছাত্রীর লার্নিং স্যাটিসফ্যাকশন গ্যারান্টেড কারণ ছাত্র/ছাত্রী টিউটরকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পাচ্ছে। আর যেহেতু একজন শিক্ষক একজন ছাত্র/ছাত্রীকে পড়াবে, তাই ছাত্র/ছাত্রীর পার্সোনালাইজড সমস্যার ইজি সমাধান পাওয়া যাবে।

যেমন, একজন শিক্ষার্থী গণিতে উপপাদ্যের একটা এক্সট্রা বুঝতে পারছে না। ইউটিউব ঘাটাঘাটি করেও ওই সমস্যার (উপপাদ্যের এক্সট্রা) সমাধান পাওয়া গেলো না। আবার ধরুন, অন্য একজন শিক্ষার্থীর বায়োলজির কোনো একটা অনুচ্ছেদে সমস্যা। এইভাবে একেকজন ছাত্রছাত্রীর একেক টপিকে সমস্যা। আর এইসব সমস্যার সমাধান কখনো ইউটিউবে বা হোম টিউটরের কাছে পাওয়া যায়, কখনো পাওয়া যায় না। এখন যদি এই শিক্ষার্থীরা YapTutor এ আসে, সাবজেক্ট এক্সপার্ট টিউটর বুকিং দেয়, অতঃপর টিউটরের কাছ থেকে সাবজেক্ট টপিক ভালোভাবে বুঝে নেয়, তাহলে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশুনায় স্মুথ ও শাইনি অগ্রগতি লাভ করবে। আর পুরো বিষয়টি অনলাইনে হওয়ার কারণে ছাত্রছাত্রী ও টিউটর প্রত্যেকে যার যার ফিজিক্যাল লোকেশন থেকেই কম্পিউটার/স্মার্ট মোবাইল এর মাধ্যমে ভার্চুয়াল ক্লাশে অংশগ্রহণ করতে পারছে। সাবজেক্ট টপিক বুঝিয়ে দেয়ার জন্য ইন-পার্সন হোম টিউটরগণ খাতাকলমে যেভাবে বুঝিয়ে দেন, ঠিক সেই কাজগুলো আমাদের এক্সপার্ট টিউটরগণ ভার্চুয়াল হোয়াইটবোর্ড প্রযুক্তির সহায়তায় করে দিবেন। আর তাই ছাত্রছাত্রীর লার্নিং সাকসেস গ্যারান্টেড। এইভাবে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই টিউটর ও স্টুডেন্ট পরস্পর কানেক্টেড হতে পারেন, স্টাডি প্রব্লেম সমাধান করতে পারেন।

যেহেতু “ইয়াপটিউটর” একটা প্রফেশনাল টিউটর সার্ভিস মার্কেটপ্লেস, তাই যেকোনো ব্যক্তি-ই এখানে টিউটর হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। তবে আমরা টিউটর রিক্রটমেন্টে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করছি। আমরা সারা দেশের সবচেয়ে মেধাবী (এবং ভালো বুঝাতে পারে) ব্যক্তিদের-ই আমাদের প্লাটফর্মে টিউটর হিসেবে এপ্রুভ করছি। আমাদের টিউটর রিক্রটমেন্ট প্রসেসটি এরকম: প্রথমে টিউটর হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, এরপর প্রোফাইল কমপ্লিট করবেন, অতঃপর ওই টিউটর যে সাবজেক্ট পড়াবেন, নিজে সেই সাবজেক্ট টেস্ট প্রদান করবেন এবং প্রতিটি সাবজেক্ট টেস্টে টিউটরকে অবশ্যই ৮০% স্কোর (পাশ মার্কস) অর্জন করতে হবে। যেসমস্ত টিউটরদের প্রোফাইল কমপ্লিট নয়, সাবজেক্ট টেস্টে অংশগ্রহণ করেননি, অথবা সাবজেক্ট টেস্টে পাশ করেননি, আমরা তাদেরকে এপ্রুভ করি না। আর এইভাবেই আমরা সারা দেশের সবচেয়ে ভালো টিউটরদের এক ছাতার নিচে (ইয়াপটিউটর প্লাটফর্মে) জড়ো করতে পারবো। এবং আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই যোগ্য ও মেধাবী টিউটরগণ-ই আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদেরকে সঠিক গাইডলাইন প্রদান করতে পারবেন। 


বাংলাদেশে আমরা সাধারণত যা দেখি, এইচএসসি/এ লেভেল পর্যন্ত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থিদের-ই হোম টিউটর প্রয়োজন হয়। এর উপরের লেভেলের (অনার্স/মাস্টার্স/ডক/পোস্টডক) শিক্ষার্থীরা সাধারণত ট্রেডিশনাল হোম টিউটর রাখেন না, তবে তারা অবশ্যই এক্সপার্ট মেন্টরদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাপারে মেন্টরশীপ সাপোর্ট নিয়ে থাকেন। যেমন, ক্লাস এসাইনমেন্ট, প্রজেক্ট, থিসিস, রিসার্চ, প্রপোজাল, ফরেন স্টাডি, ইত্যাদি বহু বিষয়ে এক্সপার্ট মেন্টরদের কাছ থেকে সাপোর্ট নিয়ে থাকেন।

যেমন, রাজশাহীতে অবস্থানরত একজন শিক্ষার্থী ওনার থিসিস রিসার্চের বিষয়ে বুয়েটের একজন অধ্যাপকের কাছ থেকে কিছু মেন্টরশীপ সাপোর্ট নিতে পারেন। ফিজিক্যাল ডিস্ট্যান্সের কারণে ট্রেডিশনাল পদ্ধতিতে উক্ত শিক্ষার্থীকে ঢাকায় এসে প্রি-শিডিউল মোতাবেক মেন্টরশীপ সাপোর্ট নিতে হবে। কিন্তু এখন যেকোনো শিক্ষার্থীর আর এই ঝামেলা পোহাতে হবে না।

প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে ইন্টারনেট কানেক্টেড ডিভাইসের সহায়তায় ইয়াপটিউটর ১-১ ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে মেন্টরশীপ সাপোর্ট নিতে পারবেন। এইভাবে আমরা দেশের সকল শিক্ষকদের সাথে শিক্ষা গ্রহণেচ্ছু শিক্ষার্থীদের কানেকশন করে দিতে পারি, শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সপার্ট শিক্ষক/মেন্টরদের কাছ থেকে সাপোর্ট নিতে পারবেন। দেশের বাহিরে উচ্চশিক্ষায় যারা গমন করেছেন, যারা বিদেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত আছেন, ওনারাও এই ১-১ ভার্চুয়াল ক্লাসরুম প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট করতে পারবেন।


আমাদের এই ইয়াপটিউটর প্লাটফর্ম তৈরির মূল উদ্দেশ্য: শুধুমাত্র সমাধান দেয়া নয়। যেকোনো স্টাডি প্রব্লেমের সমাধান তো বাজারে নোট বই, গাইড বই, গুগল, ইউটিউব ভিডিও ইত্যাদি বিভিন্ন নামে প্রচলিত রয়েছে এবং প্রায় প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর কাছেই এই নোট বই, গাইড বই, গুগল, ইউটিউব রয়েছে। তাই আমাদের এই প্লাটফর্ম তৈরির মূল উদ্দেশ্য হলো: যেকোনো স্টাডি প্রব্লেমএর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক সমাধান দেয়া যাতে এই জাতীয় যেকোনো সমস্যার সমাধান পরবর্তীতে ছাত্রছাত্রীরা নিজেরাই করতে পারেন অর্থাৎ টিউটরের আন্ডারস্ট্যান্ডিং লেভেলের পুরোটাই ছাত্রছাত্রীর মস্তিষ্কে ইনজেক্ট করে দেয়া।

অধ্যয়নকালীন সময়ে ছাত্রছাত্রীরা এই ধরণের আনএক্সপেক্টেড স্টাডি প্রব্লেম হরহামেশাই ফেস করে, অভিভাবক বা শিক্ষক হিসেবে আপনি কি এই ধরণের এক্সপেরিয়েন্স কখনো পেয়েছেন? যদি আপনার সন্তান/ছাত্রছাত্রী এই সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেই মুহূর্তে আপনি কি করে থাকেন? আপনার কি মনে হয়, আমাদের এই ইয়াপটিউটর প্লাটফর্ম আপনার সন্তানের/ছাত্রছাত্রীর এই সমস্যাগুলো সমাধানে সক্ষম?

যদি আপনি পূর্বে এই ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন, তাহলে আমরা অনুরোধ করছি, কিভাবে আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে পারি, জানাবেন। আমরা আমাদের এই ইয়াপটিউটর প্লাটফর্ম সেইভাবে অপ্টিমাইজ করবো। আমরা যেভাবে ছাত্রছাত্রীদের স্টাডি প্রব্লেমের সমাধান দিচ্ছি, এর চেয়ে ভালো আর কি কি করতে পারি, আমাদের গাইডলাইন প্রদান করুন।

আমরা আপনাদের পরামর্শ মোতাবেক ইয়াপটিউটর প্লাটফর্ম অপ্টিমাইজ করবো। আপনার কি মনে হয়, আমরা যেভাবে সমাধান দিতে যাচ্ছি, তা সত্যি-ই আপনার সন্তান/ছাত্রছাত্রীদের স্টাডি প্রব্লেমের সমাধান করবে ? 

বহির্বিশ্বে এই ধরণের উদ্যোগ বহু আগে থেকেই চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদেরও একই সমস্যা বিদ্যমান থাকায় আমরা এই উদ্যোগ বাংলাদেশে ইমপ্লিমেন্ট করার প্রয়াস হাতে নিয়েছি। যেহেতু এই প্লাটফর্ম ১-১ (অর্থাৎ ভার্চুয়াল ক্লাশে ১ জন টিউটর শুধুমাত্র ১ জন ছাত্র/ছাত্রী পড়াবে), তাই এই উদ্যোগটি ফ্রি করা যাবে না, কারণ এটা প্রফেশনাল সার্ভিস। যেসমস্ত শিক্ষকেরা বিনামূল্যে জ্ঞান বিতরণ করেন, তারাও ইন্সটেন্ট মুহূর্তে ছাত্রছাত্রীর সমস্যার সমাধান নাও দিতে পারেন।

ইয়াপটিউটর আমাদের একার প্লাটফর্ম নয়, এটা বাংলাদেশের সকল অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীর প্লাটফর্ম। আর তাই আপনার প্লাটফর্ম আপনি কিভাবে ব্যবহার করতে চান, আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করার জন্য স্বনির্বন্ধ অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ।

আমাদের ওয়েবসাইট: https://yaptutor.com/

19/07/2019